• ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Daily Jonokotha

পেক্সেলস বাংলাদেশ মিটআপে নদীর জীবন ও গল্পের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১৬:০৫ অপরাহ্ণ
পেক্সেলস বাংলাদেশ মিটআপে নদীর জীবন ও গল্পের অনুসন্ধান [ppsp_buttons]

ঢাকার ইতিহাস, নদী আর জনজীবন এই তিনের মেলবন্ধনেই ক্যামেরাবন্দি হলো এক অন্যরকম দৃশ্যপট। বিশ্বখ্যাত স্টক ফটো ও ভিডিও প্ল্যাটফর্ম পেক্সেলস (Pexels) এবং সংগঠন সমগ্র বাংলাদেশ–এর যৌথ আয়োজনে সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো ফটোওয়াক ও ক্রিয়েটর মিটআপ। বাংলাদেশে এটি ছিল পেক্সেলস মিটআপের পঞ্চম আয়োজন।

পেক্সেলসের বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘লাইফ অ্যালং দ্য ওয়াটার: এশিয়া প্যাসিফিক চ্যালেঞ্জ’–এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আয়োজনটির শিরোনাম ছিল ‘ঢাকা: লাইফ অন ওয়াটার’। মিটআপ হোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহিদুল ইসলাম নকীব এবং কো-হোস্ট ছিলেন ইপ্সিতা জিহান।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, তরুণদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে দেশের জীবনধারা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মিটআপে ঢাকা ছাড়াও ফেনী, কুমিল্লা ও গাজীপুর থেকে আগত ফটোগ্রাফার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা অংশ নেন।

বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভ্রমণভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের সৃজনশীল কাজে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে সংগঠন সমগ্র বাংলাদেশ। সংগঠনটির লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা, দর্শনীয় স্থান, লোকজ সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে তুলে ধরা।

আয়োজকেরা জানান, সমগ্র বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে ভ্রমণভিত্তিক ফটোওয়াক, সাংস্কৃতিক নথিভুক্তকরণ এবং তরুণদের জন্য শেখার সুযোগ তৈরি করে থাকে। এর মাধ্যমে নতুন ও আগ্রহী ফটোগ্রাফাররা হাতে-কলমে কাজ শেখার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।

ফটোওয়াকের সূচনা হয় ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা আহসান মঞ্জিল প্রাঙ্গণে অংশগ্রহণকারীদের মিলিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। সেখান থেকে নৌকাযোগে শুরু হয় নদীপথের যাত্রা। এ সময় তারা বুড়িগঙ্গার অপরপাশে অবস্থিত ঢাকার প্রাচীন জনপদ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর ডকইয়ার্ড, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য হানাফি জামে মসজিদসহ নদীপথের নানা স্থাপনা, পরিবেশ ও জনজীবনের মুহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করেন।

নদী, নৌকা, শ্রমজীবী মানুষের জীবন, জলপথকেন্দ্রিক ব্যস্ততা ও শহরের নিত্যদিনের সংগ্রাম—এসবই ছিল অংশগ্রহণকারীদের ক্যামেরার প্রধান বিষয়বস্তু।

পেক্সেলস মিটআপের পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশ তরুণদের সৃজনশীলতা বাড়াতে নিয়মিত সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এর অংশ হিসেবে তরুণদের প্লাস্টিক দূষণ, পরিবেশ রক্ষা, জনসচেতনতা ও সামাজিক ইতিবাচক বার্তা নিয়ে সচেতনতামূলক ছবি ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরির চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা জানান, দায়িত্বশীল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে পেক্সেলস মিটআপ আয়োজন প্রসঙ্গে হোস্ট মাহিদুল ইসলাম নকীব বলেন, বাংলাদেশের সব মিটআপে আমিই দায়িত্ব পালন করছি। তরুণদের এই সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আমি সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়ে পাশে আছি।
মিটআপের পুরো দিনের কার্যক্রম ভিডিও আকারে ধারণ করেন ফয়সাল ইবনে কালাম।

আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশে এ ধরনের ফটোওয়াক ও ক্রিয়েটর মিটআপ অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও শক্তভাবে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।