রাজধানীর কোলঘেঁষা কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ পারগেন্ডারিয়ার কানাপট্টি এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাপলা নগর রোডে দীর্ঘ ১২ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের অবসান হতে যাচ্ছে। একটি সরু গলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার এতদিন কার্যত বন্দি অবস্থায় বসবাস করলেও, স্থানীয় উদ্যোগে সেই গলি উন্মুক্ত করার কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তির আশায় বুক বাঁধছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ এবং কিছু জমির মালিকের অনমনীয় অবস্থানের কারণে গলিটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পেছনের অংশে বসবাসকারী কয়েকশ মানুষ চলাচলের ন্যূনতম সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন। সেখানে কোনো অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না, এমনকি মৃত্যুর পর লাশ বের করতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অসুস্থ রোগীদের কাঁধে করে বা স্ট্রেচারে তুলে মূল সড়কে আনাই ছিল একমাত্র উপায়।
শুধু তাই নয়, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা এলাকাবাসীর দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তোলে। দীর্ঘদিন ধরে এই অব্যবস্থাপনার কারণে এলাকাটি অনেকটাই মূল জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় স্থানীয় সমাজসেবক ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি হায়াত আলী ভান্ডারী এগিয়ে আসেন। তার উদ্যোগে জমির মালিকদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা শেষে গলি উন্মুক্ত করার কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে একটি প্লটের মালিক জনস্বার্থে ৪ ফুট জায়গা ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছেন। অপর প্লট মালিকের সঙ্গেও সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও পারিবারিক শোকের কারণে বিষয়টি সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গলি বন্ধ থাকায় এলাকাটি অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছিল। নির্জনতার সুযোগে সেখানে মাদক বেচাকেনা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়। এ প্রসঙ্গে হায়াত আলী ভান্ডারী বলেন, চলাচলের পথ নিশ্চিত হলে শুধু মানুষের দুর্ভোগই কমবে না, বরং এলাকায় সামাজিক নিরাপত্তাও ফিরে আসবে।
রাস্তা নির্মাণ কাজের অগ্রগতি কামনায় এলাকাবাসীকে নিয়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিয়ে সবাই দ্রুত কাজ সম্পন্নের আশা ব্যক্ত করেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই গলিটি একটি পূর্ণাঙ্গ চলাচলের রাস্তায় রূপ নেবে এবং দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ জীবনের অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেন অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।