
হাটে উৎসুক জনতার ভীড়
ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বড় অস্থায়ী পশুর হাট হিসেবে পরিচিত সুলতানী হাটে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু নিয়ে বেপারীরা হাটে প্রবেশ করতে থাকেন। বিকেলের পর থেকেই শুরু হয়েছে বেচাকেনা, আর এতে জমে উঠতে শুরু করেছে ঈদুল আজহাকে ঘিরে কোরবানির পশুর বাজার।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন তারানগর ইউনিয়নের ঘাটারচর এলাকায় সাবেক মিলেনিয়াম সিটি প্রাঙ্গণে বসেছে এই বৃহৎ পশুর হাট। প্রতি বছরের মতো এবারও হাটটিকে ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।
হাটে কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে আসা বেপারী মুজাফফর মিয়া জানান, কয়েক বছর ধরেই তিনি সুলতানী হাটে গরু নিয়ে আসছেন। এবারের ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমি ৪০টি গরু নিয়ে এসেছি। আশা করছি ভালো দামে সবগুলো বিক্রি করতে পারবো।
হাটে ঘুরতে আসা ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা জাফর আহমেদ বলেন, গরু আসা শুরু হয়েছে শুনে দেখতে এলাম। দাম নাগালের মধ্যে থাকলে এখান থেকেই কিনবো। এবারের হাটটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গুছানো ও পরিচ্ছন্ন মনে হয়েছে।
সুলতানী হাটের ইজারাদার হাজী সাইফুল ইসলাম জানান, কেরানীগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বড় অস্থায়ী পশুর হাট হিসেবে ইতোমধ্যেই সুলতানী হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেপারীরা গরু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় খামারিরাও তাদের গরু ও ছাগল হাটে নিয়ে আসবেন বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, হাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। র্যাব, পুলিশ এবং সুলতানী হাট কর্তৃপক্ষের যৌথ তত্ত্বাবধানে পুরো হাটজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।
হাটে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে মেডিকেল টিম, পশু চিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবক টিমও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া বৃষ্টির সময় যাতে পানি না জমে সে বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রশস্ত রাস্তা ও আলাদা কার পার্কিং সুবিধা থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে পশু কেনাবেচা করা যাবে বলেও দাবি করেন হাট কর্তৃপক্ষ।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা বেপারীদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান ইজারাদার। সবমিলিয়ে এবারের সুলতানী হাটকে আধুনিক ও নিরাপদ পশুর হাট হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।