ঢাকার কেরানীগঞ্জে পৃথক ঘটনায় ইয়াবা সেবন ও বহনের অভিযোগে চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় মহসিন (৪০) নামে আরও একজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবনের সময় রবিন (২৯) ও আব্দুর রব (৩০) নামে দুজনকে আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কেরানীগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
- অভিযান শেষে আটক দুজনকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত রবিন ও আব্দুর রবকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে একই রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রায়েরচর এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালায় স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় বিয়ার বাবুল ওরফে বাবুল আকন (৪০) ও আলী হোসেন (৩০) নামে দুজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করেন এলাকাবাসী। পরে তাদের গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
আটকের পর স্থানীয়রা কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আটি বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ার বাবুল ও আলী হোসেনকে আটক করে। পরে তাদের কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আদালত তাদের মাদক সেবন ও পরিবহনের দায়ে প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা করেন। পরে সাজাপ্রাপ্ত দুজনকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মহসিন (৪০) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছিল। তবে যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। চলতি মাসে চারজনসহ এ পর্যন্ত মোট ৪২ জনকে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের অভিযান আরও কঠোর হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক সেবন, বহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।