আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা কার্যক্রমকে ঘিরে শুরুতে উত্তেজনা ও নানা আলোচনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে ইজারাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া।
১৮ মে (সোমবার) বিকেলে উপজেলার ৯টি পশুর হাটের মধ্যে ৫টির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কয়েকটি হাট অস্বাভাবিক কম মূল্যে ইজারা হওয়ায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ হাসনাবাদ পশুর হাটে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় হাটটির ইজারা পান হাজী মোঃ সেলিম। অথচ গত বছর একই হাটের ইজারা হয়েছিল ৬১ লাখ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা কমে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আগানগর আমবাগিচা বালুর মাঠ পশুর হাটের ইজারা সর্বোচ্চ ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় পান হাজী আনোয়ার হোসেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার এই হাটে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা কম রাজস্ব এসেছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী জিনজিরা পশুর হাট। মাত্র ৭ লাখ টাকায় হাটটির ইজারা পান মোঃ মোজাদ্দেদ আলী বাবু। যেখানে গত বছর একই হাটের ইজারা মূল্য ছিল ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রায় অর্ধেকেরও কম মূল্যে ইজারা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
এছাড়া নতুন সোনাকান্দা গবাদিপশুর হাট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা পান শাহাবুদ্দিন মেম্বার। গত বছর হাটটির ইজারা ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অপরদিকে গত বছর ব্যাপক আলোচিত মিলিনিয়াম সিটি পশুর হাটের ইজারা এবার পান হাজী সাইফুল ইসলাম। তিনি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায় হাটটি ইজারা নেন। অথচ গত বছর একই হাটের ইজারা মূল্য ছিল প্রায় ৭২ লাখ টাকা।
এদিকে কাঙ্ক্ষিত দরপত্র না পাওয়ায় রাজাবাড়ী বালুর মাঠ, রসুলপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন বালুর মাঠ, খাড়াকান্দী মাদ্রাসা হাট ও বাঘাশুর হাটের ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
হাট ইজারা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গত ১২ মে দরপত্র বিক্রি শুরুর পর এনসিপির পক্ষ থেকে গরুর হাট ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়। এতে স্থানীয়ভাবে কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে এনসিপির কাউকে দেখা যায়নি। ফলে সম্ভাব্য সংঘাত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকলেও পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাটে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না হওয়ায় ইজারা মূল্য কমে গেছে। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, সবকিছুই সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাটগুলোর ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। যেসব হাটে কাঙ্ক্ষিত দরপত্র পাওয়া যায়নি, সেগুলোর বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।