• ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Daily Jonokotha

কোরবানি শুধু আবেগ নয়, প্রজ্ঞা ও উম্মাহর কল্যাণেরও নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
কোরবানি শুধু আবেগ নয়, প্রজ্ঞা ও উম্মাহর কল্যাণেরও নাম [ppsp_buttons]

বর্তমান পরিস্থিতিত কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে গরু কোরবানি নিয়ে যে প্রশাসনিক কঠোরতা, মামলা-হামলা ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে—তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

যারা আগে থেকেই গরু কিনে ফেলেছেন, তাদের হয়তো এখন আর তেমন কিছু করার সুযোগ নেই। কিন্তু যারা নতুন করে কোরবানির পশু কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি।

আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা ইবাদতের চেয়ে “দেখানোটা” বেশি পছন্দ করেন। অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক ঝুঁকি—সবকিছুর মাঝেও বড় গরু কিনে যেন এক ধরনের বাহাদুরি দেখাতে চান। অথচ ইসলাম কখনো লোক দেখানোকে উৎসাহ দেয়নি।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
— সূরা আল-হাজ্জ: ৩৭

অর্থাৎ কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া, আল্লাহভীতি ও আনুগত্য; পশুর আকার নয়।

বর্তমানে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে—
এখন গরু বিক্রির স্বার্থে কিছুটা শিথিলতা দেখানো হবে, কিন্তু ঈদের পরপরই মামলা, নোটিশ বা হয়রানি শুরু হতে পারে। প্রশ্ন হলো—এ ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মুসলমানদের নতুন সংকটে ফেলা কতটা বুদ্ধিমানের কাজ?

ইসলামে কোরবানি ওয়াজিব ঠিকই, কিন্তু নির্দিষ্টভাবে “গরুই দিতে হবে”—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ছাগল, ভেড়া, দুম্বাও শরিয়তসম্মত কোরবানির পশু।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করলো না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে।”
— সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩১২৩

এখানে কোরবানির গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে, কিন্তু পশুর ধরন নিয়ে অহংকার নয়।

বরং বর্তমান বাস্তবতায় যদি মুসলমানরা ব্যাপকভাবে ছাগল বা ভেড়ার কোরবানির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে কয়েকটি উপকার হতে পারে—

• মুসলিম খামারিদের হাতে অর্থ পৌঁছাবে
• ছোট খামার অর্থনীতি শক্তিশালী হবে
• ঝুঁকি ও হয়রানি কমবে
• সামাজিক সংঘাত এড়ানো যাবে
• উম্মাহর সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষা হবে

ইসলামের একটি বড় শিক্ষা হলো—ক্ষতি কমানো ও কল্যাণ বৃদ্ধি করা।

আল্লাহ বলেন—

“তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।”
— সূরা আল-বাকারা: ১৯৫

আরেক হাদিসে রাসূল ﷺ বলেছেন—

“ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির প্রতিদানও ক্ষতি দিয়ে দেওয়া যাবে না।”
— ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩৪১

অর্থাৎ এমন কাজ করা ঠিক নয়, যার ফলে পুরো মুসলিম সমাজ অযথা হয়রানি, ভয় বা ক্ষতির মুখে পড়ে।

মনে রাখতে হবে—
কোরবানি মানে শুধু বড় পশু জবাই নয়; বরং নিজের অহংকার, আবেগ ও একগুঁয়েমিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করাও কোরবানি।

উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করা, দুর্বল মুসলমানদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, সংঘাত এড়িয়ে ইবাদত আদায় করা—এটাও এক ধরনের কোরবানির প্রজ্ঞা।

শুধু গরু দিলেই জান্নাতের সেতু দ্রুত পার হওয়া যাবে—এমন ধারণা ইসলামের শিক্ষা নয়। আল্লাহ তাকওয়া, প্রজ্ঞা ও নিয়ত দেখেন।

আল্লাহ আমাদেরকে আবেগের চেয়ে হিকমত দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।