নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে মাঠে নেমেছে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। আচরণ বিধি ভাঙলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সরেজমিনে পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ উমর ফারুকের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ টিম বাস্তা ইউনিয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনকালে ভোট কেন্দ্রগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি, ভোট গ্রহণ কক্ষের অবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রতিপালনের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখা হয়। কোথাও কোনো শৈথিল্য বা অনিয়ম রয়েছে কি না তা সরেজমিনে যাচাই করা হয়।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ উমর ফারুক বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি বাস্তবায়নে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছে। কোনো প্রার্থী বা দলের জন্য ছাড় নেই। বিধি লঙ্ঘন করলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, কেরানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী অপসারণ করা হয়েছে। যেসব স্থানে এখনো পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন রয়ে গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও সমর্থকদের ফোন করে দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় বাস্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ঢাকা-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পোস্টার চোখে পড়লে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশের পরপরই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পোস্টারগুলো খুলে ফেলে। ঘটনাটি এলাকায় স্পষ্ট বার্তা দেয় নির্বাচনী আচরণ বিধি মানার প্রশ্নে কোনো আপস নেই।
ইউএনও কেরানীগঞ্জ বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার, বিধি লঙ্ঘন বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিদর্শনকালে তিনি প্রিজাইডিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ভোট গ্রহণের দিন কেন্দ্রের ভেতরে ও আশপাশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ভোট গ্রহণের আগ পর্যন্ত এবং ভোটের দিন সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ের মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে কেরানীগঞ্জ উপজেলায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।