মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ঢাকা-৩ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন যুবদল কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল কবির পল। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল পৌণে পাঁচটার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ঢাকা-৩ এর কার্যালয়ে তার পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
কেরানীগঞ্জের রাজনীতিতে রেজাউল কবির পল একটি পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। ছাত্রদল রাজনীতির মাধ্যমে তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা অবিভক্ত কেরানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্ররাজনীতির প্রবাদ পুরুষ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা মোকাবিলা এবং সংগঠনের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবেই রেজাউল কবির পলকে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাকে ঢাকা-৩ আসনের ভোটের রাজনীতিতে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
মনোনয়ন দাখিলের পর রেজাউল কবির পল বলেন, ঢাকা-৩ আসনের প্রতিটি অলিগলি আমার পরিচিত। এখানকার প্রতিটি মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। এলাকার মানুষের অনুরোধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। মানুষের ভালোবাসায় ইনশাআল্লাহ আমি ঢাকা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হবো বলে আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের স্বপ্নের ঢাকা-৩ গড়ার লক্ষ্যে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আমি একটি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত উন্নত ঢাকা-৩ উপহার দিতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।
জিনজিরা হাউলির বাসিন্দা এই যুবদল নেতা দীর্ঘদিন ধরে কেরানীগঞ্জের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। স্থানীয়রা বলছেন, যিনি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছেন, আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন এবং এলাকার বাস্তব সমস্যাগুলো গভীরভাবে জানেন—সংসদ সদস্য হিসেবে রেজাউল কবির পলই বেশি উপযুক্ত প্রার্থী।
মনোনয়ন দাখিলের মধ্য দিয়ে ঢাকা-৩ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি ও উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেজাউল কবির পল শুধু একজন প্রার্থী নন, বরং তিনি ঢাকা-৩ আসনে পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠছেন।
আগামী দিনগুলোতে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও প্রচার কার্যক্রমকে ঘিরে ঢাকা-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।